Header Ads Widget

Responsive Advertisement

নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি: শান্তিপূর্ণ ভোটে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এখন মূল পরীক্ষায়



ক্রাইম টিভি বাংলা প্রতিবেদন :ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। এ অবস্থায় সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা, কেন্দ্র দখল কিংবা জোরপূর্বক ভোটের মতো পরিস্থিতি যাতে আগেভাগেই প্রতিহত করা যায়, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর টহল ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের জন্য ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো অনিয়ম বা সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর।

অতীতের অভিজ্ঞতায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এবারকার নির্বাচনকে অনেক বিশ্লেষক বাহিনীটির জন্য একটি ‘ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সেনাবাহিনী যদি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ থেকে ভোটার, প্রার্থী ও এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে এবং অনিয়ম-সহিংসতার ঘটনায় দৃশ্যমান ও দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এবারের নির্বাচন অতীতের বিতর্ক ছাপিয়ে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

সেনা সদর ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে আইন ও ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ অনুযায়ী ধাপে ধাপে বল প্রয়োগ করা হবে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি গুলিস্তানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনা সদরের সামরিক অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী আইনের আওতায় থেকেই দায়িত্ব পালন করবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশন, বেসামরিক প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আশ্বস্ত করেছেন যে প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

ইতোমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা দৃশ্যমান হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগে ও পরে সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে।

এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এবারের নির্বাচন সেই আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠার বড় সুযোগ। নিরপেক্ষতা, পেশাদারত্ব ও দৃশ্যমান কার্যকারিতার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী যদি দায়িত্ব পালন করতে পারে, তবে এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ