নতুন এই সুবিধা পেতে হলে বিদেশি বাসিন্দাদের ‘প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি’ পারমিট থাকতে হবে, যার বার্ষিক ফি ১ লাখ সৌদি রিয়াল। বিকল্প হিসেবে মাসিক আয় কমপক্ষে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল হলেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে সাধারণ পর্যটকদের জন্য দোকানটি এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে।
সৌদি আরবে ১৯৫২ সাল থেকে অ্যালকোহল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি ধীরে ধীরে সামাজিক বিধিনিষেধ শিথিল করছে। সিনেমা হল চালু, নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি এবং ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা হ্রাসের পর সীমিত পরিসরে অ্যালকোহল বিক্রির অনুমোদন সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রিয়াদের ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টারের একটি অচিহ্নিত ভবনে প্রথম এই মদের দোকানটি চালু হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। শুরুতে সেখানে কেবল অমুসলিম কূটনীতিকদের প্রবেশাধিকার ছিল। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই নতুন নীতিমালার আওতায় ধনী অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য দোকানটি খুলে দেওয়া হয়। সেখানে বিয়ার, ওয়াইনসহ বিভিন্ন ধরনের মদ বিক্রি হচ্ছে।
দোকানে প্রবেশের সময় ক্রেতাদের পরিচয়পত্র ও ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন জমা রেখে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। দাম পশ্চিমা দেশের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি হলেও কালোবাজারের দামের চেয়ে কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবেই বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জার্মান থিঙ্কট্যাংক কার্পোর গবেষক সেবাস্তিয়ান সন্স বলেন, সংবেদনশীল ইস্যুতে সৌদি কর্তৃপক্ষ সাধারণত ধীরে এগোয়। তারা প্রয়োজনে দুই ধাপ এগিয়ে এক ধাপ পেছাতে প্রস্তুত থাকে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমে যাওয়ায় তেলনির্ভরতা কমাতে সৌদি আরব পর্যটন, বিনোদন ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে জোর দিচ্ছে। ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ কোটি বিদেশি পর্যটক টানার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটন ও হোটেল খাত ইতোমধ্যে ভবিষ্যতে পর্যটকদের জন্য অ্যালকোহল অনুমতির সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরব দুবাইয়ের মতো উন্মুক্ত নীতিতে না গিয়ে কাতারের মতো নিয়ন্ত্রিত মডেল অনুসরণ করেই ধাপে ধাপে অগ্রসর হবে।
0 মন্তব্যসমূহ